স্যার VS ফ্রি-ফায়ার

0

প্রথম দৃশ্য

[রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে দুই বন্ধু। সাদিক আর হিমেল। হিমেলকে একটু চিন্তিত দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সে সেটা বুঝতে দিতে চাইছে না। সাদিক ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করছে]

সাদিক: কী ব্যাপার? তুই তো মোটেও চুপচাপ ছেলে না। কিন্তু আজকে আবার কী হলো? এখনো পর্যন্ত 'টু' শব্দটাও করিস নি!

হিমেল: ও, তাই না? এই নে, শব্দ করলাম। টু, টু, টু, টু।

সাদিক: ইয়ার্কি মারিস না হে। তুই আমাকে হাসানোর চেষ্টা করছিস অবশ্যই। কিন্তু পারবি না।

হিমেল: পারবো না? বলিস কী? কেন পারবো না বল তো?

সাদিক: দেখ দোস্ত, নিজের মনে দুশ্চিন্তা থাকলে অন্য কাউকে হাসানো যায় না। অনেকেই হয়তো সেটা পারে, কিন্তু তুই পারিস না। আমি দেখেই বুঝতে পারছি।

হিমেল: গণকগিরি শিখে গেছিস! বাহ! বেশ তো, আমার হাত দেখে দিবি একটু?

সাদিক: ফাজলামো ছাড়। আমাকে একটু ব্যাপারটা খুলে বল।

হিমেল: বলতে পারি। কিন্তু তিনটি শর্ত আছে।

সাদিক: তিনটা হোক বা তেত্রিশটা, একটাও বলতে আসবি না। তোর কীভাবে মনে হলো তোর শর্তগুলো আমি শুনতে যাবো? বেশি বাজে না বকে ব্যাপারটা বল।

হিমেল: আচ্ছা নাছোড়বান্দা তো তুই! ঠিক আছে, বলছি শোন।

সাদিক: বল।

হিমেল: আমাদের রুহুল স্যারকে চেনা আছে তো তোর? কেমন কড়া জানিস?

সাদিক: তোর আগে থেকে স্যারকে চিনি। তাই দয়া করে আর স্যারকে চিনিয়ে দিতে আসিস না।

হিমেল: কিন্তু আমার থেকে বেশি ভালো করে চিনিস না।

সাদিক: আচ্ছা, মানলাম। ঘটনাটা বল।

হিমেল: শোন, ঘটনাটা হলো এইরকম যে, বাবার খুব শখ হয়েছে এই ছুটির ভেতরে আমাকে প্রাইভেট পড়াতে পাঠাবেন। আর বেছে বেছে রুহুল স্যারকেই ঠিক করলেন। অঙ্ক পড়বো তাঁর কাছে। আমি তো রাজি হইনি। কিন্তু বাবাও মানলেন না। তাই প্রাইভেট ঠিক হয়ে গেলো। বিকালবেলা স্যারের বাড়ি গিয়ে পড়ে আসতে হবে। ছাত্র কেবল আমি, একাই। এইতো, কালকের আগেরদিন থেকে শুরু করেছি।

সাদিক: তারপর?

হিমেল: প্রথম দিন গিয়েই পড়ানো আরম্ভ হলো। সবগুলো অঙ্ক মোটামুটি করলাম। ঠিকঠাকই হলো। খাতা দেখে স্যারকে একটু হতাশ হতে দেখলাম। হয়তো ভেবেছিলেন আমি মারাত্মক কিছু একটা ভুল করবো, আর আচ্ছা করে আমাকে কয়েকটা ঝাড়ি শুনিয়ে দেবেন। হয়তো রিহার্সাল করেও রেখেছিলেন। কিন্তু সে সু্যোগ যখন দিলাম না, তখন হতাশ না হয়ে আর উপায় কী?

সাদিক: এ পর্যন্ত তো তোরই জিত হলো।

হিমেল: ঐ পর্যন্তই। তারপর ঘটলো অঘটন! কল এলো আমার ফোনে। ফোন উঠলো বেজে। রিংটোনে কোন গান লাগিয়ে রেখেছিলাম জানিস? রিমিক্স বাই ডিজে অজয়! 'বাপ, বাপ হোতাহে, বেটা, বেটা হোতাহে, ফ্রি-ফ্রি-ফ্রি ফায়ার, লা-লা-লাভার'!! ঐ গানটা। ব্যাস, হয়ে গেলো। স্যারের ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি। বোধহয় আমাকে হেনস্থা করার সুযোগ পেয়ে গেছেন। রিহার্সাল আর মাঠে মারা যাবে না। আমি ফোন ধরতে চাইছিলাম না। স্যার হুঙ্কার মেরে আমাকে ফোন ধরতে বললেন। আরো আদেশ করলেন যেন লাউড স্পিকার দিয়ে কথা বলি। এমনভাবে বললেন, আমার না মেনে উপায় ছিলো না।

সাদিক: তারপর?

হিমেল: তারপর আর কী? আশিক ফোন করেছিলো। প্রথমত ভালোভাবেই জিজ্ঞেস-টিজ্ঞেস করলো যে কী খবর, আজকে বিকালে খেলতে আসিনি কেন, কী করছি ইত্যাদি ইত্যাদি। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিলো, কিন্তু বাঁশ দিলো একেবারে শেষমুহুর্তে। বলল আজ রাতে নাকি ক্লাস-স্কোয়াড খেলবে, আমি যেন অনলাইনে থাকি। ব্যাস, যেই বলেছে ঐ কথা, অমনি স্যারের আরেকটা মারাত্মক হুঙ্কার! তাতেই ফোন গেলো কেটে। বোধহয় আশিক বুঝতে পেরেছিলো উল্টোদিকে কে রয়েছে।

সাদিক: স্যারের হুঙ্কারে ফোন কেটে গেলো? এটা ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না।

হিমেল: তোকে বিশ্বাস করতে বলছিও না। আসল কথা ওটা না, কথা হলো, ফোন তো কেটে গেলো। কিন্তু শুরু হয়ে গেলেন স্যার। বেত-টেত দিয়ে না, সোজা জ্ঞানের তীর ছুঁড়ছিলেন আমার দিকে। ফ্রি ফায়ার খেললে কী ক্ষতি হবে, না খেললে কী উপকার হবে, কেন খেলবো, না খেলে পড়াশোনা করতে পারি না, ইত্যাদি ইত্যাদি। মানে এককথায়, যতখানি বলা যায়, তার এক শব্দও কম খরচ করেন নি। সত্যি বলছি ভাই, ঐ ভাষণগুলো যদি মনে করে করে লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে উইকিপিডিয়া একেবারে ভর্তি হয়ে যেত।

সাদিক: ভুলেই যখন গেছিস, তখন সেটা নিয়ে আর চিন্তা কিসের?

হিমেল: কাহিনী ওখানেই থেমে গেলে তো চিন্তাই ছিলো না। কিন্তু, পানি আরো অনেকখানি গড়িয়েছে! সেদিন রাতেই বাবার কাছে খবর চলে গেছে। স্যার বাবাকে না জানি কী সব হাবিজাবি বুঝিয়েছেন, আর তাতেই আমার সব গেলো!

সাদিক: সব গেলো মানে?

হিমেল: তুই তো জানিস, রাত্রে নিজের ঘরে ফোন নিয়ে যাওয়াও আমার জন্য হারাম! রাতে সবগুলো ফোনের সাথে আমার ফোনটাও বাবা-মার বেডরুমে থাকে। তাতেই হলো ঝামেলা! সকালে উঠে ফোন আনলক করে দেখি, ফোনের চেহারা-ই পাল্টে গেছে। একেবারে নতুন নতুন লাগছে, কিনে আনার সময় যেমন ছিলো, ঠিক তেমন।

সাদিক: ফোন নতুন হয়ে গেছে, আর তুই বলছিস তোর সব গেছে? আজব তো!

হিমেল: তুই তো আসলেই গাধা রে! আচ্ছা বল, নতুন ফোন কিনে আনার পর সেখানে কী কী থাকে?

সাদিক: কী আর থাকবে? প্রয়োজনের কিছু কিছু অ্যাপ থাকে, আর বাকি সব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ দিয়ে ভরা থাকে।

হিমেল: আমারটাও একেবারে ঠিক ওইরকমই হয়ে গেছে।

সাদিক: তা-তার মানে? তুই বলতে চাচ্ছিস! ফ্যা-ফ্যা---।

হিমেল: ঠিক ধরেছিস। ফ্যাক্টোরি রিসেট! ওদিন রাত্রেই বাবা ফোনে একেবারে ফ্যাক্টোরি রিসেট মেরে দিয়েছেন। আমার ফোনের প্রয়োজনীয় সবকিছু এক্কেবারে ক্লিয়ার!

সাদিক: তোর ফোনে ফ্রি ফায়ার ছাড়া আর কোন প্রয়োজনীয় জিনিসটা ছিলো বলতো? সবসময় তো ঐ একটা অ্যাপেই ঢুকে থাকতিস।

হিমেল: ফ্রি ফায়ারের চেয়ে প্রয়োজনীয় কিছু হতে পারে না। ফ্রি ফায়ার আমার জীবনের অংশ। নাহ, জীবনের অংশ না, ফ্রি ফায়ার আমার জীবন। আমার আর ভালো লাগছে না। দু-দিন ধরে এনিমি কিল করতে না পেরে আমি আর থাকতে পারছি না। হাত চুলকোচ্ছে!

সাদিক: আমার ফোনে ডাটা আছে। নে, প্লে স্টোর থেকে নামিয়ে নে।

হিমেল: নামানো তো কালকেই শেষ।

সাদিক: তাহলে?

হিমেল: পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি।

সাদিক: অ্যাঁ?

হিমেল: অ্যাঁ নয় রে রে, ভ্যা!! এতক্ষণ ধরে তোকে কী বোঝাচ্ছি তাহলে? পাসওয়ার্ড মনে থাকলে কোনো সমস্যাই তো ছিলো না। কিন্তু এখন কী হবে?

[সাদিককে একদমই চিন্তিত হতে দেখা গেলো না, বোধহয় ও কোনো সমাধান পেয়ে গেছে]

সাদিক: (হাসিমুখে) দোস্ত, তোর মনে আছে? একবার একটা ম্যাচ খেলার জন্য আমার ফোন দিয়ে লগ ইন করেছিলি!

হিমেল: হ্যাঁ, মনে আছে তো।

সাদিক: হুহু! ওইজন্যেই তোর পাসওয়ার্ডটা পাওয়া যাবে আমার ফোনে। গুগল ক্রোমের পাসওয়ার্ডবুকে সেভ করে রেখেছিলাম।

হিমেল: সেভ করেছিলি? কেন? পাসওয়ার্ড তো আমার! আমার পাসওয়ার্ড তুই কেন সেভ করে রেখেছিলি?

সাদিক: এই তো, এই কারণে। ভেবেছিলাম হয়তো কোনোদিন তোর কাজে লেগে যাবে। আর লেগেও গেলো।

হিমেল: (মৃদু হেসে) ওরে আমার পরানের বন্ধু রে! এতদিন কোথায় ছিলি রে? এতদিন তোরে খুঁজে খুঁজে মরলাম রে! সত্যি? এত সচ্চরিত্রের লোক তুই? না, নেভার। বিশ্বাস করি না। হ্যাঁ, ঠিক শুনেছিস, বিশ্বাস করি না! সত্যি করে বল, আমার পাসওয়ার্ড সেভ কেন করেছিলি?

সাদিক: না মানে আসলে, হে হে, তোকে একটু-আধটু জ্বালানোর জন্য।

হিমেল: তবে রে!

সাদিক: এ, এ। এখন আমাকে মারতে আসলে কিন্তু পাসওয়ার্ড পাবি না।

হিমেল: তুই যে বাঁচানোর বন্ধু, নাকি বাঁশ দেওয়ার বন্ধু, সেটা কোনোদিন বুঝতে পারলাম না। নেহাত পাসওয়ার্ডটার দরকার পড়লো। তাহলে আজ তোর ভর্তা বানাতাম!

সাদিক: এই নে।

[রুহুল স্যার সামনে থেকে আসছিলেন। আর এরা ফোন চালাতে চালাতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। ফোনের দিকে নজর থাকায় এরা খেয়াল করতেই পারেনি যে স্যার এদের সামনে চলে এসেছেন]

স্যার: (হুঙ্কার ছেড়ে) এ, তোরা ফোনে কী ঘাটছিস রে?

[হুঙ্কার শুনে হিমেল-সাদিক সটান সোজা]

সাদিক: (আমতা আমতা করে) না, স্যার কিছু না।

স্যার: কই, দে তো দেখি।

হিমেল: স্যার, স্যার। কিছু না স্যার।

স্যার: কিছু না মানে? (হঠাৎ ফোনের দিকে নজর গিয়ে) ঐ? ফোনে গ্যারেনার লোগো দেখলাম মনে হলো! তার মানে? অহ!! তুই আবার ফ্রি ফায়ার শুরু করেছিস।

হিমেল: (চিৎকার দিয়ে) সাদিক, পালা।

স্যার: এই, দাঁড়া।

[হিমেল-সাদিক পিছন ফিরে দৌড়াতে শুরু করে। স্যার খানিক্ষণ পিছু করেন। কিন্তু ধরতে না পেরে একসময় থেমে যান। ততক্ষণে হিমেল-সাদিক মোড় ঘুরে অদৃশ্য হয়ে গেছে]

  

দ্বিতীয় দৃশ্য

[পেট খারাপের নাম দিয়ে সেদিন আর প্রাইভেটে যায়নি হিমেল। পরেরদিন, অর্থাৎ আজকে, আবার গেছে। এখন স্যারের বাসায় হিমেল। সন্ধ্যা লেগে গেছে। তবুও স্যার ছুটি দিচ্ছেন না। হিমেল চিন্তিত। যদি স্যার কালকের ঘটনার কৈফিয়ত জানতে চান, তখন সে কী বলবে?]

স্যার: হিমেল, তোকে দুটো প্রশ্ন করব।

হিমেল: (ভয়ে ভয়ে) করুন, স্যার।

স্যার: প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, কালকে তুই ওভাবে আমাকে দেখে পালালি কেন? আর দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, তুই ফ্রি ফায়ার আবার শুরু কেন করেছিস?

হিমেল: স্যার, প্রশ্ন তো একটাই। কিন্তু আপনি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দুটো করছেন কেন?

স্যার: (রেগে উঠে) শাটাপ! একদম পালটা প্রশ্ন করবি না। আমার প্রশ্নের জবাব দে।

হিমেল: (থমথম খেয়ে) স্যার, খেলতে ভালো লাগে, তাই খেলি।

স্যার: কিসের ভালো লাগে রে? ওখানে আছে টা কী? এমন একটা গেম, যেখানে গিয়ে শুধু গুলি করে করে মানুষ মারা হয়, সেই গেম খেলে ভালো কীভাবে লাগতে পারে?

হিমেল: স্যার, আমি তো সত্যি সত্যি মানুষ মারছি না।

স্যার: এইটুকু বয়সে হয়তো মিথ্যা মিথ্যা মানুষ মারছিস। কিন্তু বড় হয়ে গেলে? বড় হয়ে গেলে কী করবি? তখন যদি সত্যি মেরে দিস।

[হিমেল চুপ করে থাকে]

মানুষ মিথ্যা মার, আর সত্যি মার, সে কথা বলছি না। কথা হলো, আমি মানা করা সত্ত্বেও তুই আবার খেলতে গেলি কেন?

হিমেল: (মৃদু স্বরে) স্যার, আমার ভালো লাগে খেলতে।

স্যার: (হুঙ্কার ছেড়ে) আবার সেই একই কথা! তোর কাছে আর কোনো যুক্তি নেই? বারবার একই যুক্তির বুলি আওড়াচ্ছিস? কিরে, তুই যে ফ্রী ফায়ার খেলিস, তোর এমবি লাগেনা? এই এমবি কিনতে টাকা লাগে না? সেই টাকা জমিয়ে এক্সট্রা প্রাইভেট পড়তে পারিস না? তাহলেও তো পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলা যায়।

হিমেল: (মনে মনে) তা হয়তো পারি।

স্যার: কিন্তু না। তোকে ফ্রী ফায়ার-ই খেলতে হবে। এছাড়া অন্য কোন গেম নাই প্লে স্টোরে?

হিমেল: (থমথম খেয়ে) আছে তো স্যার। কিন্তু…….।

স্যার: ঐ খেলে তুই মানুষ খুন করছিস, তাতে তোর চরিত্র নষ্ট! দিনরাত ওই গেম নিয়ে পড়ে থাকছিস, তাতে তোর সময় নষ্ট! রাত জেগে জেগে খেলছিস, তাতে তোর চেহারা নষ্ট! ফোনে এমবি তুলে তুলে শেষ করছিস, তাতে তোর টাকা নষ্ট! এটা তুই জানিস না?

হিমেল: স্যার, জানি। কিন্তু……..।

স্যার: (হুংকার ছেড়ে) চুপ কর। জানিস যখন, খেলিস কেন, হ্যাঁ? আসলে দোষ তোর না, এই মোবাইলটাই যত নষ্টের গোড়া। তোর কাছে স্মার্টফোন থাকে কেন? কোন দরকার নেই? কী করবি মোবাইল দিয়ে? কথা বলার জন্য? সে তো একটা ফিচার ফোন, বাটনওয়ালা ফোন হলেই হয়।

হিমেল: স্যার, ফোন কাজে তো লাগে।

স্যার: কিসের কাজে লাগে? বল, কিসের কাজে লাগে? কোন কাজে লাগে? বল বলছি!

[হিমেল চেষ্টা সত্ত্বেও কান্না আটকে রাখতে পারে না। অন্যসময় হলে স্মার্টফোনের একশো উপকারীতা বলে দিতো। কিন্তু এখন পারলো না। স্যারের কথার মধ্যে কেমন জানি পেঁয়াজের মতো একটা ঝাঁঝালো ভাব আছে। এমনিতেই কান্না চলে আসে]

এই কাঁদবি না। আমি কান্নার কিছু বলি নি।

হিমেল: (কান্না সামলে) না স্যার, কাঁদছি না।

স্যার: তোর সাথে কালকে সাদিক ছিলো, না?

হিমেল: জ্বী স্যার?

স্যার: (আগের চেয়ে উচ্চস্বরে) কাল তোর সাথে সাদিক ছিলো না?

হিমেল: না না স্যার, কেউ না।

স্যার: বল।

[হিমেল চুপ করে থাকে]

ঠিক আছে। বলতে হবে না। কিন্তু তুই শোন। তোকে ভালো করে ওয়ার্নিং দিচ্ছি। আর যদি কোনদিন ফোন হাতে নিতে দেখি, একদম কিন্তু তোর খবর করে দেব। সাবধান।

[হিমেলকে বসিয়ে রেখে স্যার অন্য ঘরে গেলেন। হিমেল শান্ত হয়ে বসে আছে। চোখের পানি একটু থেমেছে। তবে একটু আগে তার ওপর দিয়ে 'রুহুল স্যারের ঝাড়ি' নামক যে ঘুর্ণিঝড়টা গেলো, তা কাটিয়ে ওঠা বেশ মুশকিল!]

 

তৃতীয় দৃশ্য

[কীভাবে যেন সাদিকের নাম্বার খুঁজে বের করলেন রুহুল স্যার। তাকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বললেন। সাদিকের কী যেন মনে হল। সে স্যারের বাসায় পৌঁছে গেল। কোনো প্রস্তুতি নেই, কিন্তু প্রচুর আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করে নিয়েছে সে]

স্যার: এইতো মানিক চলে এসেছো। তোমার অপেক্ষা-ই করছিলাম।

সাদিক: আমাকে ডেকেছিলেন, স্যার?

স্যার: তোমাকেই তো ডেকেছিলাম। জানো নিশ্চয়ই, কেন ডেকেছিলাম।

সাদিক: জ্বী না, স্যার। সেটা তো আপনি বলেন নি।

স্যার: ও তাই না? বেশ, তোমার বন্ধুর কাছে না হয় শুনে নাও, কেন তোমায় দেখেছি।

[এতক্ষণ হিমেলের দিকে নজর দেয়নি। নজর দিয়েই চমকে উঠলো। হিমেলের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে]

সাদিক: তোকে জীবনেও কাঁদতে দেখিনি। কাঁদছিস কেন? কী হয়েছে? স্যার আমাকে কেন ডেকে পাঠিয়েছেন।

হিমেল: স্যারের কাছে শুনে নে ভাই।

সাদিক: স্যার, আপনি দয়া করে বলুন কী হয়েছে।

স্যার: তুমি ফ্রি ফায়ার খেলো?

সাদিক: হ্যাঁ, স্যার। খেলি।

স্যার: ওই গেম খেলে কী পাও?

সাদিক: স্যার, বুঝলাম না।

স্যার: (উচ্চস্বরে) তোমরা ফ্রী ফায়ার খেলে কি পাও? ব্যাখ্যা করতে পারবে?

সাদিক: কেন স্যার? আনন্দ পাই। অবসর সময় কাটাই।

স্যার: আনন্দ? মানুষ মেরে আনন্দ? অবসর সময় কাটাও? মানুষ মেরে অবসর সময় কাটাও? বাহ! কী একটা গেম! ৫০ জন প্লেয়ার নামলো। তাদের মধ্যে ফায়ারিং হচ্ছে, গোলাগুলি হচ্ছে, ডিসুম ডিসুম হচ্ছে, আর যে টিকে থাকছে সেই হচ্ছে বিজয়ী। সুন্দর একটা গেম, তাই না?

সাদিক: স্যার, আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না।

স্যার: তা বুঝবে কেন? খেলে খেলে তো একদম অন্ধ হয়ে গেছ। গোলাগুলি না করলে তো পেটের ভাত হজম হয়না। ক্লাসিক না খেললে তো রাতে ঘুম আসে না। আসল টাকা দিয়ে ডায়মন্ড না কিনলে তো বিভিন্ন সাইজের বন্দুক-কস্টিউম কেনা হয়না। তাহলে আমার কথা বুঝতে পারবে কীভাবে?

সাদিক: স্যার, আমরা তো সবসময় ফ্রি ফায়ার খেলি না।

স্যার: (রেগে) তুই সব সময় খেলিস আর মাঝে মাঝে খেলিস, কাহিনী একই। কাজ তো একই করতে হচ্ছে। মানুষ মারতে হচ্ছে, না মানে তোদের ভাষায় 'কিল' করতে হচ্ছে। যাইহোক, অর্ডার দিয়ে রাখলাম, খেলা বাদ দিয়ে দে।

(সাদিক স্যারকে জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলো)

সাদিক: এই বিষয়ে আপনার সাথে একটু কথা আছে, স্যার।

স্যার: কী কথা আছে? বল।

সাদিক: স্যার, বাংলাদেশে কিছুদিনের মধ্যে ফ্রি ফায়ার, ব্যান হয়ে যাবে, খবরটা কি আপনি জানেন?

স্যার: হ্যাঁ জানি তো। খুব ভালো খবর এটা। কিন্তু আমি চাই, ব্যান হওয়ার আগেই তোরা নিজেরাই ছেড়ে দে।

সাদিক: স্যার এটা যখন জানেন, তাহলে হয়তো এটাও জানেন যে, ভারতে কিছুদিন আগে এরকম আরেকটা গেম 'পাবজি' ব্যান হয়েছিল।

স্যার: হ্যাঁ হয়েছিল তো।

সাদিক: কিন্তু তারপর সেখানকার ছেলেপুলেরা কি পাবজি খেলা বাদ দিয়ে দিয়েছিলো? সত্যি করে বলুন তো স্যার, ভারতে পাবজি ব্যান হওয়ার পর, সেটার খেলোয়াড়ের সংখ্যা কি বেড়েছে না কমেছে।

স্যার: আমি সেটা তো দেখিনি।

সাদিক: বেড়েছে স্যার, বেড়েছে। অনেকটা বেড়েছে। আগের তুলনায় অনেকে আবার পাবজিতে যোগ দিয়েছে। কেন স্যার? আপনার তো ধারণা, ব্যান করে দিলেই সমাধান। তাহলে তো আর কেউ খেলতে পারবে না।

স্যার: হ্যাঁ, তাই তো।

সাদিক: কিন্তু না স্যার। বাস্তবতা অন্যরকম। আপনি কাউকে যে জিনিসটা করতে মানা করবেন, সে সেই জিনিসটাই বেশি করে করবে।

স্যার: কী বলতে চাস?

সাদিক: আমি বলতে চাই যে, আপনি কাউকে ধমকিয়ে ফ্রী ফায়ার বন্ধ করাতে পারবেন না। কাউকে শাসিয়ে ফ্রী ফায়ার বন্ধ করাতে পারবেন না। মোবাইল সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে ছুড়ে দিয়ে এলেও ফ্রি ফায়ার বন্ধ করাতে পারবেন না। বাংলাদেশ থেকে ব্যান করে দিলে তো পারবেন-ই না।

স্যার: তার মানে এইটা চলতেই থাকবে?

সাদিক: চলতেই থাকবে না স্যার, বন্ধ করার উপায় আছে। বন্ধ করতে হবে ভেতর থেকে। ভেতর থেকে যতদিন না পর্যন্ত মানুষ বুঝবে যে এইটা একটা আসক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে, সেদিন পর্যন্ত কিচ্ছু হবে না। আপনি জোর করে কারো খেলা বন্ধ করে দিতে পারবেন না। আমাদেরকে উপদেশ দিলে হয়ত আমরা বদলাতে পারি। কিন্তু ধমক দিয়ে কোন কাজ হবে না, সেই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।

স্যার: (হঠাৎ রেগে) তুই আমাকে শেখাচ্ছিস? আমি তোর স্যার, নাকি তুই আমার স্যার?

সাদিক: আমি জানিনা স্যার, আপনি কথাটাকে কোন দিক দিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আমার মনে হয় আপনি ভুল করছেন। আর আমার দায়িত্ব আপনাকে ভুলটা শুধরে দেওয়া। আমি সেটাই করছি।

স্যার: তোর এত বড় সাহস কী করে হয় রে? তুই আমাকে জ্ঞান দিতে এসেছিস?

সাদিক: আপনি যদি সেটা ভেবে বসে থাকেন, তাহলে আমার কিছু করার নাই। আই অ্যাম সরি, স্যার। কিন্তু সত্যি স্যার, এভাবে জোর করে শুধু ফ্রী ফায়ার কেন, কোনো গেম-ই আপনি বন্ধ করতে পারবে না, যদি মানুষটা ভেতর থেকে পরিবর্তন না হয়।

স্যার: তোদের হাতে ফোন উঠেই এমন হয়েছে। এইরকম রং-বেরংয়ের কথার বুলি ফুটছে মুখ দিয়ে।

সাদিক: এই হচ্ছে আপনার ভুল ধারণা, স্যার। হাতে স্মার্টফোন থাকলেই বুঝি ছেলে মেয়েরা খারাপ হয়ে যায়? না স্যার, হয় না। ফোন হচ্ছে একটা নিরপেক্ষ জিনিস। আপনি সেটাকে যেভাবে ব্যবহার করবেন, সেটাও আপনাকে ঠিক সেরকম ফল দেবে। আপনি যদি এখন দিন চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সাড়ে তেইশ ঘন্টা ফোন নিয়ে পড়ে থাকেন, তাহলে ফলাফলে দেখবেন আপনার চোখ আর চোখ নেই, রোবটের চোখের মতো যান্ত্রিক হয়ে গেছে। আর আপনি যদি ফোনকে ঠিকঠাক ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন আপনার অনেক উপকারে আসছে। আর যাদের ফোন নেই বা যারা ইচ্ছে করেই ফোন হাত দিয়ে ধরেও না, তাদের থেকে আপনি ভালোকিছু করতে পারবেন, ভালো কিছু শিখতে পারবেন।

(স্যার চুপ করে থাকেন। বোধহয়, শক্ত এক যুক্তির গিঁটে বাধা পড়ে গেছেন)

এটা প্রযুক্তি, স্যার। আমরা যদি ফোনকে আমাদের উপকারে লাগাই, আমাদের ভালো হবে, খারাপ হবে না। কিন্তু দোষ তো আমাদের। ফোনকে আমরা খারাপ কাজে লাগাই, খারাপ জিনিস দেখি, আসক্ত হয়ে যাই, সব সময় ফোন নিয়ে পড়ে থাকি, তাই তো এখন ফোনের দোষ দেওয়া হয়। কিন্তু না স্যার, ফোনের কোনো দোষ নেই। দোষ আমাদের।

স্যার: কিন্তু ফ্রি ফায়ারের ক্যারেকটারগুলো যে ধাচের পোষাক পরে, সেগুলো?

সাদিক: সে ব্যাপারে আমার কোনো কমেন্ট নেই স্যার। শুধু ফ্রি ফায়ার কেন, যেকোনো গেম, টিভির যেকোনো চ্যানেল, রাস্তাঘাট, দোকানপাট, কোথায় মানুষ রুচিসম্মত পোষাক পরে আছে বলুনতো? খুঁজলে তো হাতেগোনা কিছু পাওয়া যাবে। ওরা ছাড়া বাকি সবাই তো ঝাংকু-পাংকু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর প্যান্ট ছেড়া, ওর শার্টের দুই হাতা দুই রকম, আরেকজন হাফপ্যান্ট, এর জামায় বোতাম নাই, মেয়েরা ছেলেদের পোষাক পরে বেড়াচ্ছে, জামা পরে নিচে বোতাম না লাগিয়ে গিট্টু লাগাচ্ছে, এসব কী? বলুন স্যার! যখনই জিজ্ঞেস করতে যাবেন, ঐ তোর প্যান্টের হাঁটুর জায়গায় ছেড়া কেন, তখন কী উত্তর পাবেন জানেন? উত্তরটা এরকম- স্যার, আপনি এখনো সেই মান্ধাতার আমলে বাস করছেন, লেটেস্ট ফ্যাশন কাকে বলে আপনার জানা নাই। তাহলে বলুন স্যার, ওদের যখন কোনো দোষ দেওয়া হচ্ছে না, তখন বেছে বেছে কেবল ফ্রি ফায়ারের ক্যারেকটারদের পেছনে লাগার কি কোনো কারণ আছে?

স্যার: আর চুল? চুল নিয়ে তোর কি মত?

সাদিক: ওই একই কথাই স্যার। আশেপাশে তাকিয়ে দেখুন, কয়জনার চুল ঠিক আছে? মেসি ছাট, নেইমার ছাট, রোনাল্ডো ছাট, ঘোড়া ছাট, নাড়ু ছাট, লম্বা ছাট, বাটু ছাট, শিয়াল ছাট, মুরগি ছাট, না জানি আর কত ছাটের ছড়াছড়ি আছে। খোঁজ নিলেই জানা যাবে।

স্যার: তোর কথায় যুক্তি আছে বলে মনে হচ্ছে। তাহলে কী করতে বলিস আমাকে এখন, বল।

সাদিক: স্যার, গেম বন্ধ নয়, কন্ট্রোল করতে হবে। আপনি হিমেলকে এক্ষুনি বলুন ওর মোবাইলে অ্যাকশন-ড্যাশ নামের একটা অ্যাপ নামাতে। ওই অ্যাপটা হিসাব করবে যে ও কোন অ্যাপে কতক্ষণ থাকে, আর দিনে কতক্ষণ ফোন ঘাটে।  আপনি সেটা প্রতিদিন ওর ফোন থেকে চেক করবেন। ওইটা রিসেট করার উপায় নাই। তাই ও কিছু করতে পারবেনা। ওর ফোনটা এন্ড্রয়েড টেন এর ভার্সনে আপ টু ডেট না, তা না হলে ফোনের ভেতরেই থাকতো জিনিসটা। এই দেখুন আমার ফোনের ভেতরে আছে। ডিজিটাল ওয়েলবিইং। দেখুন আমার হিসাব। আজকে আমি ফ্রি ফায়ারে কাটিয়েছি মাত্র পনেরো মিনিট। আর আপনি যদি আমার বিগত মাসের লিস্টটাও দেখেন, তবুও দেখবেন আমার ওই গড়পড়তা ষোল-সতেরো মিনিটেই হয়, এর বেশি হয় না। কেননা আমি জানি, ফ্রী ফায়ার কিভাবে আসক্তিহীন ভাবে খেলতে হয়।

স্যার: এক মাসের রিপোর্ট দেখাতে পারবি? কই দেখি।

(স্যার সাদিকের ফোনটা নিয়ে দেখতে লাগলেন)

এখানে তো কেবল সাত দিনের খেলার সময় দেখতে পাচ্ছি। বাকিগুলো তো শুন্য মিনিট।

সাদিক: কারণ স্যার, আমি ওসব দিন খেলিই নি। আমি কেবল মাসে একবার ইন্টারনেট কেনার সুযোগ পাই, সেটার মেয়াদ সাত দিন। তার মানে সাতদিন আমার ফ্রি ফায়ার খেলার দিন। আর বাকি দিন গুলো আমি অন্যান্য কাজ করি।

স্যার: তোর কথাতে পয়েন্ট আছে বুঝলি।

সাদিক: তো স্যার, আমি কি আপনাকে বোঝাতে পেরেছি?

স্যার: পেরেছিস। কিন্তু তুই তো সমাধান দিলি, ফ্রী ফায়ার কিভাবে আসক্তিহীন ভাবে খেলা যায়। আমি চাইছি এমন একটা সমাধান, যেন ফ্রী ফায়ার খেলাটা বন্ধই করে দেওয়া যায়।

সাদিক: আগেও তো বললাম স্যার, আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। যাদের মাথায় কিছু নেই, তারা ফোন নিয়ে পড়ে থাকবে, সারাদিন গোলাগুলি করবে, আর বড় হয়ে, আল্লাহ না করুন, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে। আর যারা একটু হলেও বুদ্ধি রাখে, আসক্তিহীন ভাবে খেলতে পারে, নিছক বিনোদন হিসেবে নিতে পারে, তারা কোনদিনও এমন করবে না, বিশ্বাস করতে পারেন।

স্যার: তাহলে তুই এই গ্যারান্টি দিচ্ছিস?

সাদিক: (আত্মবিশ্বাস নিয়ে) হ্যাঁ, স্যার। দিচ্ছি।

স্যার: (হাসিমুখে হিমেলের দিকে ঘুরে) আমি দুঃখিত রে হিমেল! আমার জানা ছিলো না যে, তোর মতো গাধার সাথেও এরকম একটা জ্ঞানী গাধা রয়েছে। একে ছাড়িস না, বুঝলি। যতদিন পারিস, তোদের এই বন্ধুত্বকে আগলে রাখতে চেষ্টা করিস। (সাদিকের কাধে হাত রেখে) এই গাধাটার মতো এমন বন্ধু, সচরাচর খুঁজলেও পাওয়া যায় না। অতএব, সাবধান! ঝগড়া করিস আর যা-ই করিস, ছাড়াছাড়ি যেন করিস না।

হিমেল: (খুশি হয়ে চোখ মুছে) ছাড়বো না স্যার, কোনোদিন ছাড়বো না। এই গাধার লেজ আমার হাতের সাথে হাতকড়া দিয়ে আটকে রাখবো।

স্যার: (অট্টহাসি হেসে) বেশ, বেশ। চল এইবার, আজ তোদের দাওয়াত এখানে।

(সেদিন রাতে স্যারের বাসাতেই ডিনার করতে হলো ওদের)

 

শেষ কথা

[ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আলোয় ভিড় ডিঙিয়ে বাসায় ফিরছিলো ওরা]

হিমেল: তুই স্যারকে তর্কে হারানোর যুক্তিগুলো কোন ওয়েবসাইট থেকে কপি করেছিস?

সাদিক: তোর কী মনে হচ্ছে? আমি আজ যা যা বললাম, সব কপি করা?

হিমেল: (হেসে) আরে না, না দোস্ত। এমনিই বলছিলাম। (পিঠে একটা কিল মেরে) তুই তো কপি করিসই না। আমার পাসওয়ার্ড তো এমনি এমনি তোর ফোনে কপি হয়ে গিয়েছিলো, তাই না?

সাদিক: সাহায্য করলাম, এবার কৃতজ্ঞতা দেখা।

হিমেল: তা দেখাবো না হয়৷ কিন্তু কথা হলো, তুই যে বললি অ্যাকশন ড্যাশ রিসেট করা যায় না। সত্যি নাকি?

সাদিক: কে বলেছে যায় না? খুব সহজে করা যায়।

হিমেল: বাহ বাহ! তাহলে তো কথাই নেই। সারাদিন খেলবো, আর প্রাইভেটের আগে সব ঠিকঠাক করে তোর মতো পনেরো মিনিট লাগিয়ে নিয়ে যাবো স্যারের কাছে।

সাদিক: না, তুই এটা করবি না।

হিমেল: কেন করবো না? হোয়াই হোয়াই?

সাদিক: কারণ আজ তোর সাথে যা হলো, তাতে তোর বিবেক অবশ্যই তোকে ঐ কাজ করতে বাধা দেবে।

হিমেল: ধুর, থাম! জ্ঞান দেওয়া বাদ দে। আমার বিবেক এখন নেপচুন গ্রহে ছুটি কাটাতে গেছে।

(সাদিকের সামনে অস্বীকার করলেও, হিমেল সত্যিই বদলে গেছে। এখন সে আর ফ্রি ফায়ারকে জীবনের অংশ হিসেবে ভাবে না। সে বুঝে গেছে, “গেম হলো কেবল নিছক একটা বিনোদন। আর এই বিনোদন কেবল অবসর সময়েই উপভোগ করা উচিত, কাজের সময়ে নয়”)

কাহিনী শেষ

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)